Site icon dbarta24.com

বাসায় ঢুকে চাঁদাবাজি ও তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা, ৪ বখাটে গ্রেপ্তার

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী মহানগরের শাহমখদুম থানার বড়বনগ্রাম এলাকায় এক ফ্রিল্যান্সারের বাসায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে চাঁদাবাজি ও এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে চার যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (১৬ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগীরা ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশের সহায়তা চাইলে রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: নগরীর বনগ্রাম রায়পাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে সাজ্জাদুর রহমান (২৫), বাবর আলীর ছেলে হাসানুর রহমান রাব্বি (২৫), ভাড়ালিপাড়া এলাকার মোতালেবের ছেলে রাকিব হাসান (২৮) এবং বোয়ালিয়া থানা এলাকার কুমারপাড়া মহল্লার হাবিবুর রহমান আল বাশারের ছেলে সানি রহমান (৩০)।

জানা যায়, গোপালগঞ্জের বাসিন্দা উত্তম বাড়ৈ বর্তমানে রাজশাহী নগরীর শাহমখদুম থানার বড়বনগ্রাম রায়পাড়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন। তিনি সেখান থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করেন।

ঘটনার দিন ১৬ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার বান্ধবী জরুরি প্রয়োজনে তার সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতে যান। কিছুক্ষণ পর আসামিরা দেশীয় অস্ত্রসহ উত্তম বাড়ৈর বাসায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে।

আসামিরা তাদের মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ভুক্তভোগীদের মারধর করে ও বাসার বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এ ছাড়া অভিযুক্তরা উত্তম বাড়ৈর বান্ধবীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তরুণীকে শারীরিক সম্পর্কের কুপ্রস্তাব দেয় এবং রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করে ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

উত্তম বাড়ৈ কৌশলে তার সহকর্মীর মাধ্যমে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে। অভিযুক্তরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করে এবং সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় উত্তম বাড়ৈ শাহমখদুম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

রাতে শাহমখদুম থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি খেলনা পিস্তল, চাকু ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, স্টাম্পসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Exit mobile version