পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে সপ্তম শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে বিয়ের নাটক সাজিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৬ মার্চ) বিকেলে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা ইন্দুরকানী থানায় বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ উপজেলার ঘোষেরহাট বাজার থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন ঘোষেরহাট এলাকার দুলাল গাজী (৫০) এবং তার ছেলে রিদয় গাজী (২৫)। রিদয় গাজী পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, রিদয় গাজী একই এলাকার সপ্তম শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রীকে নিয়মিত উত্ত্যক্ত করত। গত ২২ জানুয়ারি মাদ্রাসার সামনে থেকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে গোপালগঞ্জ জেলায় তার খালাবাড়িতে নিয়ে যায় রিদয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
পরে রিদয় ছাত্রীকে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর বাবার সহযোগিতায় বাড়িতে বিয়ের নাটক সাজিয়ে ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ চালায়।
ভুক্তভোগীর মা জানান, “রিদয় আমার মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে গোপালগঞ্জে আটকে রেখেছিল। পরে বাড়িতে এনে বিয়ের নাটক সাজিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। আমরা মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে গেলে দেখা করতে দেয়নি। স্থানীয়ভাবে আমাদের মামলা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ইন্দুরকানী থানার ওসি মারুফ হোসেন বলেন, “ভুক্তভোগীর মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলার আসামি বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার মাদ্রাসা ছাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।”

