Site icon dbarta24.com

স্বামী দীর্ঘদিন বাড়ি না ফেরায় দেবরের সঙ্গে পরকিয়া, অতঃপর

ডেস্ক রিপোর্ট : ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বিনতা রানী (২৮) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার দেবর সুমন চন্দ্র (২৩) ও শাশুড়ি বাসন্তী রানীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ মার্চ) দুপুরে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের গনেশপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, বিনতা রানীকে হত্যা করার পর গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিনতা রানী বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের বোয়ালধার গ্রামের বুধুরাম পালের মেয়ে এবং সবুজ চন্দ্রের স্ত্রী। তাদের ৬ বছরের পুষ্পা নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত জানা গেছে, আট বছর আগে সবুজ চন্দ্রের সঙ্গে বিনতা রানীর বিয়ে হয়। দুই বছর পর কন্যা সন্তান জন্মের পর সবুজ চন্দ্র জীবিকা নির্বাহের জন্য ঢাকায় যাতায়াত শুরু করেন। গোপনে তিনি আরেকটি বিয়ে করেন এবং এরপর থেকে বাড়িতে আসা বন্ধ করে দেন।

এদিকে দীর্ঘদিন স্বামীর অনুপস্থিতিতে বিনতা রানী দেবর সুমন চন্দ্রের সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে গত বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকে বিনতা রানীকে স্বামীকে তালাক দিয়ে দেবরের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের জন্য এক সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়।

বিনতা রানীর বাবা বুধুরাম পাল জানান, সকালে মেয়ে ফোন করে কান্নাকাটি করছিল। তিনি তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই মেয়ের মৃত্যুর খবর পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মেয়ের মরদেহ বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

বিনতা রানীর ভাই পরেশ চন্দ্র অভিযোগ করেন, তার বোনকে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি দেবর, স্বামী ও শাশুড়িসহ জড়িতদের বিচার দাবি করেন।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি শওকত আলী সরকার জানান, এ ঘটনায় দেবর ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দেবর সুমন চন্দ্র বিনতা রানীর সঙ্গে পরকিয়া সম্পর্ক এবং তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

Exit mobile version