Site icon dbarta24.com

ডিবি পরিচয়ে ফিল্মি স্টাইলে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ডাকাতি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি | ১৬ মার্চ ২০২৫: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অভিনব কায়দায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। একদল দুর্বৃত্ত অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা লুট করে নিয়ে যায়। শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে দড়িকান্দি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান “দিবা এন্টারপ্রাইজ”-এর ম্যানেজার মো. নাজিম উদ্দিন সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ব্যাংক থেকে উত্তোলনের পরই ডাকাতি

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ভাটারা এলাকার দিবা এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. নাজিম উদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠানের মাইক্রোবাস চালক মামুন শেখ (৪৫) শনিবার দুপুরে মতিঝিল সিটি ব্যাংকের কর্পোরেট শাখা থেকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর তারা কোম্পানির চাঁদপুর শাখার উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁয়ের দড়িকান্দি ব্রিজ পার হওয়া মাত্রই একটি সিলভার রঙের এক্সজিও ফিল্ডার তাদের গতিরোধ করে।

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি

গাড়ি থেকে অজ্ঞাত ৬ জন ডাকাত নেমে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়। তারা ভুক্তভোগীদের গাড়ি তল্লাশির কথা বলে নামায়। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে, চোখ বেঁধে এবং হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তাদের মাইক্রোবাসে তুলে নেয়।

এরপর আড়াই ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর অপরিচিত একটি স্থানে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে থাকা দুই ব্যাগ ভর্তি ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য

এ বিষয়ে অভিযোগকারী ম্যানেজার নাজিম উদ্দিন বলেন, “আমাদের কোম্পানি বিকাশের লেনদেন পরিচালনা করে, যা শুধু সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে করা হয়। মালিক দেশের বাইরে থাকায় তার স্বাক্ষরিত চেকের মাধ্যমে আমরা টাকা তুলেছিলাম। কিন্তু টাকা নিয়ে যাওয়ার পথে ডাকাতির শিকার হই।”

তিনি আরও বলেন, “ডাকাত দলের একজন আমাদের গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাতে থাকে। এরপর নির্জন জায়গায় নিয়ে সব কিছু লুট করে পালিয়ে যায়।”

পুলিশের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াহিদ মোরশেদ বলেন,“ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো কিছু জানি না, খোঁজ নিতে হবে।”

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল হাসান খান বলেন,“আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চলছে।”

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) আসিফ ইমাম বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। তবে আমি ছুটিতে থাকায় বিস্তারিত বলতে পারছি না। তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত জানা যাবে।”

তদন্ত চলছে, কিন্তু অপরাধীরা অধরা

ফিল্মি স্টাইলে সংঘটিত এই চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এখন দেখার বিষয়— ডাকাতদের আইনের আওতায় আনতে কতটা সফল হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী?

Exit mobile version