Site icon dbarta24.com

তাজউদ্দীন আহমদ জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন: স্মরণ, সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের বর্ণাঢ্য মিলনমেলা

ষ্টাফ রিপোর্টার | ২৭ জুলাই ২০২৫ | ঢাকা

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল সংগঠক তাজউদ্দীন আহমদের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল ২৬ জুলাই শনিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত হয় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান।

সেন্টার ফর তাজউদ্দীন আহমদ রিসার্চ অ্যান্ড এক্টিভিজম (সিতারা) -এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সম্মাননা প্রদান এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মিলনমঞ্চে দাঁড়িয়ে সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি মোড়ক উন্মোচন করা হয় তাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে রচিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের। “তাজউদ্দীন আহমদ: শতবর্ষে সংশপ্তক” শীর্ষক প্রবন্ধ সংকলনের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রখ্যাত আইনজ্ঞ ড. কামাল হোসেন। বইটি নিয়ে আলোচনা করেন কবি ও প্রথম আলোর যুগ্মসম্পাদক সোহরাব হাসান।

এছাড়া “মুক্তির কণ্ঠস্বর তাজউদ্দীন আহমদ” শীর্ষক ভাষণ ও বিবৃতি সংকলনের মোড়ক উন্মোচন করেন গবেষক মঈদুল হাসান এবং বইটি নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য রাখেন লেখক সুহান রিজওয়ান।

প্রকাশনা উৎসবের অংশ হিসেবে টঙ্গীর রিপাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে “শিক্ষার্থীর জীবনে উন্নতির জন্য পাঠ্যপুস্তকই যথেষ্ট” শীর্ষক একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায়।

অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিশিষ্টজন, কূটনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা, গবেষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এদিন আরও আয়োজিত হয় সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান, যেখানে মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই গণঅভ্যুত্থান অংশগ্রহণকারী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, সমাজসেবী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ছয়টি ক্যাটাগরিতে মোট ১০০ জন গুণীজনকে সম্মাননা জানানো হয়।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ড. কামাল হোসেন, মঈদুল হাসান, অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, অধ্যাপক আহমাদ মোস্তফা কামাল, ডা. ফওজিয়া মোসলেম, তাজউদ্দীনের কন্যা শারমিন আহমদ ও পুত্র তানজীম আহমদ সোহেল তাজসহ আরও অনেকে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি ফর পিস, কোস্টারিকার ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আমর আব্দাল্লা, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সাবেক ডেপুটি চিফ অব মিশন জন ড্যানিলোউইজ, ভারতীয় দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ভি কে গোলুক এবং ব্রুনাই দারুসসালাম দূতাবাসের রোজাইমি আব্দুল্লাহ।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন ‘দ্য মামার্স’ নাট্যদল, সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ শায়ান এবং সৃষ্টিশীল ডান্স কোম্পানি।

সিতারা’র এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে ইতিহাসের এই মহান রাষ্ট্রনায়কের জীবন ও দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে তুলে ধরার প্রয়াস নেয়া হয়েছে।

Exit mobile version