যশোর প্রতিনিধি : মনিরামপুরে ১২ বছর বয়সী নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগে তার দাদা লুৎফর গাজী (৬০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজরাকাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত লুৎফর গাজী ওই গ্রামের জামির আলীর ছেলে।
নির্যাতনের শিকার শিশুর দাদি খোদেজা বেগম (৫২) জানান, “আমার নাতনি অনেকদিন ধরে বিষয়টি জানাচ্ছিল। আমি স্বামীকে সতর্ক করেছি, কিন্তু তিনি থামেননি। খোদেজা বেগম আরো জানান, আমার নাতনি অনেকদিন আগে থেকে আমাকে বিষয়টা জানিয়ে আসছিল। আমার স্বামীকে বলেছি নাতনি বড় হয়েছে তার গায়ে এ ভাবে হাত দিবা না, তার কাছেও যাবা না। তারপর থেকে বিষয়টা চুপ ছিল । গতকাল আমার পুতনির চাচতো নানী (শিশুটির মায়ের চাচী) বেড়াতে আসলে তার সঙ্গে বিষয়টি খুলে বলে ভুক্তভোগী মেয়েটি। পরে এলাকায় জানাজানি হলে পুলিশ এসে আমার স্বামীকে আটক করে নিয়ে যায়’।
প্রতিবেশিরা জানিয়েছেন, শিশুটির বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিন বছর আগে তাদের মা দুই ভাই বোনকে ফেলে চলে যান। চলতি মাসের প্রথমদিকে দাদা লুৎফর গাজী একবার শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে। এছাড়া একাধিকবার সে শিশুটির স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করে। বিষয়টি পরিবারের লোকজন ও নিকটতম প্রতিবেশিরা জানার পর পারিবারিকভাবে লুৎফর গাজীকে হুমকি ও মুচলকোয় ক্ষমা করেছে। কিন্তু তার যৌনাচার বন্ধ করা যায়নি।
সর্বশেষ গত রোববার (১৬ মার্চ) শিশুটির চাচাতো নানী তাদের দেখতে আসেন। মেয়েটি দাদার বাড়িতে থাকতে আপত্তি তুলে নানীর সঙ্গে যাওয়ার বাহানা জুড়ে দেয়। কোনভাবেই তাকে তার নানী বুঝাতে পারছিল না। শিশুটির এরকম আচরণে তার নানীর সন্দেহ হলে বিষয়টি নিয়ে শিশুটির নিকটতম প্রতিবেশিদের সঙ্গে আলাপ করে জানতে পারেন তার নাতনীর ওপর যৌনপীড়ন হচ্ছে।
পরে শিশুটিকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করলে নানীর কাছে ঘটনা খুলে বলে শিশুটি। পরে প্রতিবেশিদের সাহায্য নিয়ে গোপনে তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরদিন সোমবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে লুৎফর গাজীকে আটক এবং শিশুটিকে হেফাজতে নেয় মণিরামপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির চাচতো নানী রাশিদা খাতুন বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মনিরামপুর থানার ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন, “অভিযুক্ত লুৎফর গাজীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশিত হয়েছে। শিশুটির নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ তদন্ত ত্বরান্বিত করেছে।

