নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চট্টগ্রামের মাছ ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে বাসা ভাড়া নিয়ে প্রায় চার মাস অবস্থান করেছিলেন রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনী।
গত ২০ নভেম্বর ভূমি পল্লী আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অসুস্থতার অজুহাতে ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন তিনি। গত সোমবার রাতে র্যাবের অভিযানে আতাউল্লাহ ও তার সহযোগীসহ ছয়জন গ্রেপ্তার হন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আতাউল্লাহ, তার স্ত্রী শাহীনা আক্তার ও চার সহযোগী রয়েছেন। তাদের সঙ্গে থাকা পাঁচ শিশুকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। আতাউল্লাহ চিকিৎসার অজুহাত দেখিয়ে প্রথমে তিনতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। পরে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি বলে আটতলার বড় ফ্ল্যাটে স্থানান্তরিত হন।
ফ্ল্যাট মালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আতাউল্লাহ ও তার সহযোগীরা খুবই গোপনীয়ভাবে চলাফেরা করতেন এবং কারও সঙ্গে মিশতেন না।
একই দিন ময়মনসিংহ নতুন বাজার এলাকার ১৫তলা গার্ডেন সিটির ১০ তলার ফ্ল্যাট থেকে দুজন নারী এবং দুজন পুরুষসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের সঙ্গেও শিশুসন্তান ছিল।
র্যাব-১১-এর ওয়ারেন্ট অফিসার শাহনেওয়াজের করা দুটি মামলায় আতাউল্লাহ ও সহযোগীদের ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আতাউল্লাহর উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আতাউল্লাহর ফ্ল্যাটে নারী-শিশুসহ বিভিন্ন লোকজন যাতায়াত করতেন, তবে তারা কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন না। ঘটনায় ভবনের বাসিন্দারা আতঙ্কিত এবং নিরাপত্তা জোরদার করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন শুরু করেছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর আলম বলেন, আতাউল্লাহর আসল উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

