Site icon dbarta24.com

সুদের টাকা দিতে না পেরে ১৩ বছরের মেয়েকে ৪০ বছরের যুবকের সঙ্গে বিয়ে!

ডেস্ক রিপোর্ট: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মধ্য টিয়াখালী গ্রামে সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ৪০ বছরের যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটির মা-বাবা অভিযোগ করেছেন যে, মেয়ের ফুফু জোরপূর্বক এই বিয়ে দিয়েছেন।

শিশুটিকে তুলে নেওয়ার হুমকিতে পরিবারটি আতঙ্কিত। তবে অভিযুক্ত যুবক দাবি করেছেন, তিনি বিয়ে করেননি এবং শুধু পাওনা টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন।

মধ্য টিয়াখালী গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আছিয়া (১৩)। তার বাবা নজরুল সিকদার ফুফু জাহানারা বেগমের মাধ্যমে বালিয়াতলী ইউনিয়নের লেমুপাড়া গ্রামের শিপন হাওলাদারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। দেনায় জর্জরিত নজরুল চার মাসেও টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। চাপে পড়ে তিনি নিজের বসতবাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যান।

জানা গেছে, এক মাস আগে ফুফু জাহানারা বেগম আছিয়া ও তার মা খাদিজা বেগমকে তাদের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যান। সেখানে আছিয়ার মায়ের অজান্তে ভয়-ভীতি দেখিয়ে গোপনে শিপন হাওলাদারের সঙ্গে আছিয়ার বিয়ে দেওয়া হয়।

পরের দিন আছিয়ার কান্নাকাটি থেকে বিষয়টি জানতে পারেন তার মা। এরপর শিপন হাওলাদার ও ফুফু জাহানারা দলবল নিয়ে আছিয়াকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর বাধায় তা ব্যর্থ হয়।

শিশু আছিয়া বলেছে, ‘শিপন ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তার লোকজন নিয়ে আমাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে জোর করে কাগজে সই করায়। হুজুর দিয়ে কলমা পড়ায়। আমি এই প্রতারক শিপনের বিচার চাই। আমি লেখাপড়া করতে চাই।’

আছিয়ার মা খাদিজা বেগম বলেন, ‘আমার ননদ জাহানারা আমাকে ফোন দিয়ে তাদের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে। পরে আমি মেয়েকে নিয়ে সেখানে যাই।

রাতে শিপন ও জাহানারা আছিয়াকে নিয়ে পাশের বাড়িতে যায়। ফিরে এসে আছিয়া কাঁদতে থাকে। তখন সে জানায়, তাকে জোর করে শিপনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এই বিয়েতে রাজি নই। মেয়েকে নিয়ে আমি খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।’

আছিয়ার বাবা নজরুল সিকদার বলেন, ‘ব্যবসায় লোকসানের কারণে আমি দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়ি। পরে আমার বোনের মাধ্যমে শিপনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নিই।

টাকা পরিশোধ করতে না পারায় শিপন ও আমার বোন জাহানারা মেয়েকে জোর করে বিয়ে দিয়েছে। আমি মেয়েকে বাল্যবিয়ে দেব না। শিপন এখন আমার কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা দাবি করছে।’

এলাকার বাসিন্দা মো. ছোবাহান বলেন, ‘আমরা শুনেছি আছিয়ার বিয়ে হয়ে গেছে। শিপন ও তার লোকজন মেয়েকে নিয়ে যেতে চাইলে আমরা বাধা দিই। পরে তারা চলে যায়।’

অভিযুক্ত শিপন হাওলাদার দাবি করেন, ‘আমি আছিয়াকে বিয়ে করিনি। নজরুলের কাছ থেকে আমার পাওনা টাকা আদায়ের চেষ্টা করছি।’

কলাপাড়া মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাসলিমা আখতার বলেন, ‘বিষয়টি শুনে আছিয়ার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাল্যবিয়ে বাস্তবায়ন না হয়, সে জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Exit mobile version