Site icon dbarta24.com

পরিত্যক্ত নবজাতকের বাবা-মায়ের সন্ধান মিলেছে

ডেস্ক রিপোর্ট: বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া নবজাতক শিশুটির বাবা-মায়ের সন্ধান মিলেছে। শিশুটির বাবা গনেশ শ্যাম ও মা অন্তরা দাস দাবি করেছেন, তারা তাদের সন্তানকে দত্তক দেওয়ার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রিকশাচালকের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এরপর শিশুটির কোনো খবর তারা রাখেননি।

গনেশ ও তার স্ত্রী অন্তরা দাসের স্থায়ী বাসস্থান বাগেরহাটে। সেখানে ফুটপাতে চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন গনেশ। শিশুটির খবর জানার পর তিনি ও তার শাশুড়ি সুমি দাস শুক্রবার বরিশাল এসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। বর্তমানে নবজাতকটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গনেশের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২১ মার্চ বরিশাল সদর রোডের মোখলেসুর রহমান ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের সময়ই শিশুটির পিঠের মেরুদণ্ডে টিউমার ধরা পড়ে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির অবস্থা জটিল এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম। উচ্চ খরচের চিকিৎসার সামর্থ্য না থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন গনেশ ও তার পরিবার।

পরদিন (২২ মার্চ) হাসপাতালের ওয়ার্ডে থাকা অবস্থায় এক রিকশাচালক তাদের কাছে এসে শিশুটিকে এক ধনী পরিবারে দত্তক দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। গনেশ ও তার শাশুড়ি সন্তানটিকে রিকশাচালকের হাতে তুলে দেন। এরপর তারা বাগেরহাটে ফিরে যান।

গনেশ দাবি করেছেন, রিকশাচালক তাকে একটি মোবাইল নম্বর দিয়েছিল। তবে সাংবাদিকরা যখন ওই নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন, তখন রিকশাচালক ফোনটি বন্ধ করে দেয়।

শিশুটির সন্ধান পাওয়ার ঘটনা জানান সংবাদকর্মী ওমর ফারুক। তিনি বলেন, হাসপাতালের রেকর্ড ঘেঁটে দেখা যায়, শিশুটি আনডিসচার্জড অবস্থায় নিখোঁজ হয়েছিল। ভর্তি ফর্মে থাকা নম্বরে যোগাযোগ করলে গনেশ শিশুটির কথা স্বীকার করেন।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ জানান, শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হলেও, সেখানে এক মাসের কম বয়সী শিশু ভর্তি করা হয় না। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়।

শিশুটির চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তর ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। যারা সাহায্য করতে চান, তারা সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রদত্ত নম্বরে (০১৭১৫-৫৪৫১৪৫) যোগাযোগ করতে পারেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে কীর্তনখোলা নদীর তীরে একটি পরিত্যক্ত বাথরুমে নবজাতকটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা পারভীন বেগম শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

Exit mobile version