Site icon dbarta24.com

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ ও বাংলাদেশের সমঝোতা কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ ও বাংলাদেশের সমঝোতা কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ ও বাংলাদেশের সমঝোতা কৌশল

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে গভীর সংকট ডেকে আনবে। তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাত হুমকির মুখে পড়বে এবং ৫০ লাখের বেশি কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে। আলোচনায় কূটনৈতিক প্রস্তুতির ঘাটতি ও অংশীজনদের উপেক্ষা বাংলাদেশকে দরকষাকষিতে দুর্বল করে তুলেছে। মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের কৌশলগত পুনর্বিবেচনা, সমন্বিত কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক লবিং বাড়ানো জরুরি। বাণিজ্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিবেচনাও যুক্ত থাকায় আলোচনায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

ড. মিহির কুমার রায়ঃ বাংলাদেশ থেকে রপ্তানীকৃত পণ্যে ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে আগামী ১ আগস্ট। এ অবস্থায় দেশের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে এক ভয়াবহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতসহ চামড়া, প্লাস্টিক, কৃষি, লজিস্টিকস ও আর্থিক খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এটি কেবল একটি বাণিজ্য বিষয় নয়, এটি জাতীয় জরুরি অবস্থা। যারা ভাবছেন কেবল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানীকৃত পোশাক পণ্যে প্রভাব পড়বে, তারা মারাত্মক ভুল করছেন। বড় ক্রেতারা এক দেশ থেকে একাধিক বাজারের জন্য পণ্য নেয়; ফলে এই প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিষয়টি কেবল একটি বাণিজ্য সংকট নয়, এটি জাতীয় জরুরি অবস্থা। যথাসময়ে সরকার হস্তক্ষেপ না করলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান হারাবে বাংলাদেশ, যা পুনরুদ্ধারে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে এবং ৫০ লক্ষাধিক চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে। যদি এই শুল্ক ইস্যুর সমাধান না হয়, তাহলে আমাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের যৌক্তিকতা হারাবে। আমরা হয়তো বিকল্প উৎস বিবেচনা করতে বাধ্য হবো। বর্তমানে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে সরাসরি ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন এবং আরো ১০ লাখ কর্মসংস্থান রয়েছে সংশ্লিষ্ট খাতে।এই অবস্থায়’ রপ্তানি কারখানাগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অর্ডার কমার সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠান মূলত এক বা একাধিক বড় কারখানার ওপর নির্ভর করে

এখানে উল্লেখ্য মার্কিন আরোপিত দ্বিপক্ষীয় শুল্কের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করার পর থেকে ভুক্তভোগী দেশগুলোর বেশির ভাগই আমেরিকার সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা করেছে। আলোচনা শুধু সামগ্রিক পণ্যমূল্যভিত্তিক শুল্ক নিয়ে নয়; নির্দিষ্ট পণ্যের মূল্যভিত্তিক শুল্কও এতে অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে আলোচনায় বিভিন্ন বাজারে মার্কিন পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক বা প্রবেশাধিকার অন্তর্ভুক্ত। অতএব, নতুন বাণিজ্য আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। প্রথমত, নতুন মূল্যভিত্তিক শুল্কের অধীনে মার্কিন বাজারে তাদের প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে; দ্বিতীয়ত, মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সাহায্য করার জন্য আরও মার্কিন পণ্য আমদানি করতে হবে; তৃতীয়ত, দেশগুলো সেসব দেশে পণ্য রপ্তানিতে অসুবিধার মুখে পড়বে, যেসব দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি আছে ও চতুর্থত, দেশগুলো মার্কিন বাজারে উচ্চ আমদানি শুল্ক বা বিধি-নিষেধের মুখোমুখি অন্যান্য দেশ থেকে সস্তায় পেলেও পণ্য আমদানি করতে পারবে না, তাদের কৃত্রিমভাবে মার্কিন পণ্য আমদানি করতে বাধ্য করা হতে পারে।  এ ধরনের বাণিজ্য প্রক্রিয়া শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আওতাধীন দেশগুলোর রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকেই ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং তাদের কম প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে মার্কিন পণ্য কিনতে বাধ্য করবে অথবা কম খরচের উৎস থেকে আমদানি করতে বাধা দেবে। যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বাণিজ্য পছন্দের কারণে অ-মার্কিন দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন চাপের সম্মুখীন হবে, যা অর্থনীতি-বহির্ভূত সম্পর্কেও প্রসারিত হতে পারে।নতুন বাণিজ্য ব্যবস্থার এই বহুমাত্রিকতা থেকে বাংলাদেশের শিক্ষা নেওয়া দরকার।  বাংলাদেশ এখন মার্কিন বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর সম্পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে। এটি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যেমন. যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাস;  বিপুল পরিমাণে মার্কিন পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি, যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে অবদান রাখবে; . বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মূল্যসংশ্লিষ্ট শুল্কহার হ্রাসের আশা; এবং  মার্কিন বাজারে শুল্ক হ্রাস নিশ্চিত করতে রপ্তানি পণ্যের স্থানীয় মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি। যেমন বাংলাদেশে কিছু দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ। তবে বাংলাদেশকে মনে রাখতে হবে, এ ধরনের প্রতিশ্রুতি অ-মার্কিন ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিরুদ্ধে যাবে।

গত ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক পুনঃআরোপিত হয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সঙ্গে দুই দফা আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ৯-১১ জুলাই তিনদিনের বৈঠক হয়। অন্যদিকে দেশের ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ অ্যাগ্রিমেন্টের খসড়ার (সংযুক্ত সংযোজনীসহ) বিষয়ে আলোচনার হয়। কূটনীতিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ, এগিয়ে ভারত-ভিয়েতনাম  । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কোনো বাণিজ্যিক ছাড় পায় না, যেখানে ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়াসহ অনেক দেশ কৌশলগত কূটনীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ছাড় আদায় করেছে। ‘চীন ট্রাম্প-যুগে শুল্ক আরোপে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি হারিয়েছে। বাংলাদেশও তেমন বিপদের মুখে পড়তে পারে।’ তিন কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। প্রথমত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অন্তর্ভুক্ত না করা, দ্বিতীয়ত, ‘স্টেকহোল্ডার’দের মধ্যে বিজিএমইএসহ রপ্তানিকারকদের অন্ধকারে রাখা এবং তৃতীয়ত, ইউএসটিআরের (ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ না রাখা। বাংলাদেশের এসব দুর্বলতার সুযোগে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বাড়তি শুল্ক মাত্র ২ শতাংশ কমিয়ে ৩৫ শতাংশ আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশের অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী মহলসহ সংশ্লিষ্টরা এমনটি মনে করছেন।  যদিও এই শুল্ক আরোপের আগে দেশটির সঙ্গে ২৮ দফা বৈঠক ও যোগাযোগ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারকদের। তবে এসব আলোচনায় অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত বড় কোনো সাফল্য আসেনি। এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে আলোচনার জন্য দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোকে এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়নি। এতে আলোচনার টেবিলে নেগোসিয়েশনে মুনশিয়ানা দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শুল্ক কমানোর ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের অভাব ছিল। অনেক জায়গায় সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে বলে তারা মনে করেন। অথচ আলোচনার মাধ্যমে শুল্কহার কমাতে না পারলে, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে যোগ করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বাংলাদেশ এই সংকট থেকে সফলভাবে আলোচনার মাধ্যমে মুক্ত হতে পারবে কি না এটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে রপ্তানিকারকদের মধ্যে। কারণ দরকষাকষিতে পুরোপুরি সফল না হলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৩৫ শতাংশই বাড়তি শুল্ক গুনতে হবে। যা পহেলা আগস্ট থেকে কার্যকর। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে মোট শুল্ক গুনতে হবে ৫০ শতাংশ। কারণ আগেই ১৫ শতাংশ শুল্ক বহাল ছিল। ৩৫ শতাংশের সঙ্গে আগের ১৫ শতাংশ যোগ হবে। অপরদিকে তিন মাস আগে ঘোষিত ভারত ২৮ শতাংশ, পাকিস্তান ২৯ শতাংশ ও ভিয়েতনাম ২০ শতাংশ শুল্ক (যদি পরিবর্তন না হয়) দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করবে। ফলে মার্কিন বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতিযোগী এ তিনটি দেশের সঙ্গে পিছিয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রসঙ্গত, ভারত ও পাকিস্তানের পণ্যের ওপর দ্বিতীয় দফায় এখনো শুল্কারোপ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।

পরিশেষে বলা প্রয়োজন যে আলাপ-আলোচনার জন্য এখনো কিছুটা সময় আছে এবং সে সময়টাকে অত্যন্ত দক্ষ ও কার্যকরভাবে কাজে লাগাাতে পারলে আরো কিছু শুল্ক সুবিধা আদায় করা যেতে পারে। তার জন্য কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।  বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বুঝতে হবে। যেমন  বুঝতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কাঠামো মানবে না, মানবে না আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিধিবদ্ধ নিয়মকানুন। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় সেসব কথা বলা বৃথা। বাংলাদেশকে বুঝতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের আসল দৃষ্টিভঙ্গি কী এবং সেভাবেই আমাদের কৌশল সাজাতে হবে। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র তার বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কথা বলছে, সুতরাং কোন কোন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানো যায়, তা ভেবে দেখা যেতে পারে। এ ব্যাপারে এর মধ্যেই বাংলাদেশ কিছু কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। সেগুলো পুনর্মূল্যায়িত হওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রকে কী কী বাণিজ্য সুবিধা দিলে কী কী শুল্ক সুবিধা বাংলাদেশ পেতে পারে, পারস্পরিক আলোচনাটির সেখানে মনোনিবেশ করা দরকার। এ ব্যাপারে তদবিরি সংস্থাদের নিয়োগ করা যেতে পারে। , যুক্তরাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক বিবেচনা এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই শুল্কযুদ্ধটি শুরু করেছে। বাংলাদেশের জানা দরকার যে বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সে বিবেচনা এবং দৃষ্টিভঙ্গিটি কী? পারস্পরিক আলোচনায় সে বিষয়গুলো নিয়ে আসা দরকার। কারণ বাণিজ্যিক সুবিধার পাশাপাশি রাজনীতিও কাজ করে। সেটাকে ব্যবহার করেই ভিয়েতনাম বা কম্বোডিয়া শুল্কছাড় পেয়েছে।  শুল্ক আলোচনায় মোর্চা গঠনের বিষয়টিও মনে রাখা দরকার। আলোচনা দ্বিপক্ষীয় হোক ক্ষতি নেই, কিন্তু অবস্থানটি যেন যূথবদ্ধ হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা ও দরকষাকষিতে যাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আছে, তেমন বাংলাদেশীদের বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসা দরকার।

লেখক : অধ্যাপক ও গবেষক

Exit mobile version